রিটার্ন, এক্সচেঞ্জ রিফান্ড নীতিমালা

এই নীতিমালা [আপনার ওয়েবসাইট/কোম্পানির নাম] (“কোম্পানি”, “আমরা”, “আমাদের”) এবং ওয়েবসাইট ব্যবহারকারী বা গ্রাহক (“আপনি”, “গ্রাহক”) এর মধ্যে একটি বৈধ চুক্তি। কোম্পানির পণ্য বা সেবা ক্রয়, ব্যবহার বা রিটার্ন/রিফান্ডের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাবলী বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুসারে প্রযোজ্য হবে।

১. সাধারণ বিধান

১.১ আমরা প্রতিটি গ্রাহকের নিকট সঠিক, আসল এবং মানসম্পন্ন পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
১.২ যেকোনো রিটার্ন, এক্সচেঞ্জ বা রিফান্ড কেবলমাত্র এই নীতিমালায় বর্ণিত শর্তসাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে।
১.৩ কোম্পানি নীতিমালার যে কোনো অংশ পরিবর্তন, সংশোধন বা হালনাগাদ করার পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে।

২. রিটার্ন এক্সচেঞ্জের যোগ্যতা

২.১ নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে গ্রাহক রিটার্ন বা এক্সচেঞ্জ করতে পারবেন:

  • প্রোডাক্টে ম্যানুফ্যাকচারিং ত্রুটি থাকলে।
  • প্রোডাক্ট অর্ডারকৃত সাইজ, রঙ বা মডেলের সাথে মিল না থাকলে।
  • প্রোডাক্ট কাজ না করলে বা উল্লেখিত ফিচার কার্যকর না হলে।
  • ডেলিভারির সময় ভিন্ন বা মিসিং প্রোডাক্ট পাওয়া গেলে।

২.২ উপরোক্ত দাবির ক্ষেত্রে গ্রাহককে প্রমাণস্বরূপ ডেলিভারির সময় ডেলিভারি ম্যানের সামনে প্রোডাক্ট যাচাই অথবা আনবক্সিং ভিডিও প্রদান করতে হবে।
২.৩ আনবক্সিং ভিডিও ছাড়া কুরিয়ারে ক্ষতি, প্রোডাক্ট মিসিং বা ভিন্ন প্রোডাক্ট সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না।

৩. সীমাবদ্ধতা – যেসব ক্ষেত্রে রিটার্ন/এক্সচেঞ্জ/রিফান্ড প্রযোজ্য হবে না

  • প্রোডাক্ট বার্ন, ফিজিক্যাল ড্যামেজ বা গ্রাহকের অসতর্কতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে।
  • সফটওয়্যার, ডিজিটাল পণ্য বা লাইসেন্সড কোড।
  • ক্লিয়ারেন্স সেলের পণ্য।
  • প্রোডাক্টের সিল, স্টিকার বা প্যাকেজিং ভাঙা থাকলে।
  • আন্ডার গার্মেন্টস বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের প্রোডাক্ট।
  • প্রোডাক্টে দৃশ্যমান দাগ, স্ক্র্যাচ বা রিসেলযোগ্য অবস্থায় না থাকলে।
  • এক্সেসরিজ (যেমন চার্জার, কেবল, এডাপ্টার) যদি আলাদাভাবে বিক্রয়যোগ্য না হয়।
  • ফ্রি গিফট বা পুরস্কার।
  • থার্ড পার্টি হার্ডওয়্যার/সফটওয়্যারের সাথে কম্প্যাটিবিলিটি ইস্যু (যা মূল প্রোডাক্টের ডিফল্ট সমস্যা নয়)।

৪. অভিযোগ দায়ের প্রক্রিয়া

৪.১ প্রোডাক্ট হাতে পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো সমস্যার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ (প্রথম অগ্রাধিকার ইমেইল) জানাতে হবে।
৪.২ ছোটখাটো অপারেশনাল বিষয় বা ইউজার গাইডেন্সের জন্য গ্রাহক হেল্প সেন্টার বা ফেসবুক ইনবক্সে যোগাযোগ করতে পারবেন।
৪.৩ প্রমাণ ছাড়া মৌখিক অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না।

৫. রিটার্ন প্রক্রিয়া

৫.১ রিটার্নকৃত প্রোডাক্ট অবশ্যই মূল প্যাকেজিং, বক্স, এক্সেসরিজ, ওয়ারেন্টি কার্ড, স্টিকার, লেবেল ও গিফট আইটেমসহ জমা দিতে হবে।
৫.২ প্রোডাক্টের বক্সে সরাসরি টেপ লাগানো যাবে না; আলাদা ব্যাগ বা কার্টনে প্যাক করতে হবে।
৫.৩ গ্রাহক কুরিয়ারের মাধ্যমে কোম্পানির নির্ধারিত ঠিকানায় প্রোডাক্ট পাঠাতে পারবেন বা নিজে হস্তান্তর করতে পারবেন।
৫.৪ প্রয়োজনে কোম্পানি পিকআপের ব্যবস্থা করতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে কুরিয়ার চার্জ গ্রাহককে অগ্রিম প্রদান করতে হবে।
৫.৫ পুনরায় বিক্রয়যোগ্য নয় এমন অবস্থায় প্রোডাক্ট ফেরত দেওয়া হলে রিটার্ন গ্রহণ করা হবে না।

৬. রিফান্ড নীতিমালা

৬.১ প্রোডাক্ট রিসিভ ও কোয়ালিটি চেক সম্পন্ন হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিফান্ড প্রক্রিয়া শুরু হবে।
৬.২ প্রোডাক্টে কোম্পানির দায়যুক্ত ত্রুটি থাকলে ডেলিভারি চার্জ কোম্পানি বহন করবে।
৬.৩ ঢাকার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত কুরিয়ার চার্জ কোম্পানি বহন করবে; অতিরিক্ত চার্জ গ্রাহকের দায়িত্ব।
৬.৪ গ্রাহকের ব্যক্তিগত কারণে (মন পরিবর্তন, পছন্দ না হওয়া ইত্যাদি) রিটার্ন করলে সব কুরিয়ার চার্জ ও লেনদেন ফি গ্রাহক বহন করবেন।
৬.৫ ক্যাশব্যাক বা গিফটসহ কোনো অর্ডার রিটার্ন করলে, প্রাপ্ত ক্যাশব্যাক বা গিফট ফেরত দিতে হবে। ক্যাশব্যাকের অর্থ রিফান্ড থেকে কেটে নেওয়া হবে।

৭. ক্ষতিপূরণ (Indemnification)

গ্রাহক এই মর্মে সম্মত থাকবেন যে, তিনি রিটার্ন, এক্সচেঞ্জ বা রিফান্ড নীতিমালা ভঙ্গ করলে বা ভুয়া দাবি করলে, কোম্পানির যে কোনো ক্ষতি, খরচ বা আইনি দায়ভার তার কাছ থেকে আদায়যোগ্য হবে।

৮. দায়-সীমা (Limitation of Liability)

৮.১ কোম্পানি কোনো প্রকার পরোক্ষ, আকস্মিক বা শাস্তিমূলক ক্ষতির দায় নেবে না।
৮.২ কোম্পানির সর্বোচ্চ দায় সীমিত থাকবে সংশ্লিষ্ট প্রোডাক্ট বা সেবার ক্রয়মূল্যের মধ্যে।

৯. আইন বিচারব্যবস্থা

এই নীতিমালা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিশেষ করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য বিধান দ্বারা পরিচালিত হবে।
যে কোনো বিরোধ বা দাবি বাংলাদেশের প্রযোজ্য আদালতে নিষ্পত্তি হবে।

📌 সর্বশেষ হালনাগাদ: ০৬/০৯/২০২৫